
রাসূল -এর সুস্থতার আরেকটি বড়ো কারণ ছিল রোজা। তিনি নিয়মিত রোজা রাখতেন। আধুনিক স্বাস্থ্যবিজ্ঞান এই রোজা রাখার পদ্ধতিকে ‘অটোফেজি’ বলে অভিহিত করে থাকে। রোজা মূলত শরীর থেকে যাবতীয় ক্ষতিকর বস্তু এবং অতিরিক্ত মেদ-চর্বি ইত্যাদি অপসারণ করে শরীরকে ঝরঝরে করে তোলে। রাসূল বলেন-
‘প্রতিটি বস্তুর জাকাত আছে। আর শরীরের জাকাত হলো রোজা।’ (ইবনে মাজাহ : ১৭৪৫ )
আল্লার রাসূল নিয়ম করে সপ্তাহে দুদিন—সোমবার ও বৃহস্পতিার রোজা রাখতেন। এ ছাড়া প্রত্যেক চাঁদের ১৩, ১৪ ও ১৫ তারিখ রোজা রাখতেন তিনি। এই তিনটি রোজাকে বলা হয় আইয়ামে বিজের রোজা।
আয়িশা (রা.) বলেন-
‘রাসূলুল্লাহ সোমবার ও বৃহস্পতিবার রোজা রাখতেন।’ (আলবানি, ইরওয়াউল গালিল : ১/১০৫ )
আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ
বলেছেন-
‘প্রতি বৃহস্পতি ও সোমবার আল্লাহ তায়ালার কাছে বান্দার আমলসমূহ পেশ করা হয়। সুতরাং আমার পছন্দ হলো—আমার আমলসমূহ যেন রোজা রাখা অবস্থায় পেশ করা হয়।’ (তিরমিজি : ৭৪৭; ইবনে মাজাহ : ১৭৪০ )
প্রতি সপ্তাহ ও মাসের এই নিয়মিত রোজার পাশাপাশি বিশেষ বিশেষ মাসে নবিজি অতিরিক্ত সিয়াম পালন করতেন। যেমন : মুহাররম মাসের ১০ তারিখকে ঘিরে তিনি দুটি রোজা রাখতেন। এই ব্যাপারে আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ বলেছেন-
‘রমজানের পর সর্বোত্তম রোজা হলো আল্লাহর মাস মুহাররমের রোজা।’ (মুসলিম : ১১৬৩)
রমজানের প্রস্তুতি হিসেবে শাবান মাসের প্রায় পুরো সময়জুড়ে নবিজি রোজা রাখতেন। আয়িশা (রা.) বলেন-
‘শাবানের তুলনায় অন্য কোনো মাসে আমি তাঁকে এত অধিক হারে রোজা রাখতে দেখিনি। তিনি শাবান মাসের কয়েকদিন ব্যতীত প্রায় পুরো মাসই রোজা রাখতেন।’ (মুসলিম : ২৭৭৭ )
এ ছাড়া শাওয়াল মাসে রাসূলুল্লাহ ছয়টি রোজা রাখতেন। এই ছয়টি রোজা পালন করলে সারা বছর রোজা রাখার সওয়াব হয়। নিয়মিত এই রোজা রাখার মাধ্যমে আধ্যাত্মিকভাবে প্রশান্তি অর্জনের পাশাপাশি শারীরিকভাবেও ফিট থাকতেন রাসূল । আবু আইয়ুব আনসারি (রা.) বর্ণনা করেন, নবিজি বলেছেন—
‘যে ব্যক্তি রমজানের রোজা রাখল এবং রমজানের পর শাওয়াল মাসে ছয়টি রোজা রাখল, সে যেন সারা বছর রোজা রাখল।’ (মুসলিম : ২৮১৫)
আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞান বলে- রোজার মাধ্যমে মানুষের শরীরের কোষ পরিষ্কার হয়, নতুন করে রিসাইকেল হয় প্রোটিন। রোজা রোগ প্রক্রিয়াকে পূর্বের সুস্থ অবস্থায় ফিরিয়ে আনে; লিভার, ব্রেন ও কোষের মধ্যে জমে থাকা বিষাক্ত ও ক্ষতিকর পদার্থ অপসারণ করে। ফলে রোজাদার ব্যক্তি খুব সহজেই চর্বি ও প্রদাহজনিত বিভিন্ন রোগ থেকে মুক্ত থাকতে পারেন ।